৮৪%
বাংলাদেশের কর্মরত মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। প্রায় ৫.৮ কোটি মানুষ।
বিবিএস শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪
এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রান্ত নয়। এটিই অর্থনীতির বেশির ভাগ।
প্রতিদিন দুটি অবিচার।
এক
কাজ পাওয়া
ভোরে, রাস্তার ধারে, কর্মীরা ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। কেউ কেউ কাজ পান। বাকিরা খালি হাতে বাড়ি ফেরেন, আর কাল আবার চেষ্টা করেন।
দুই
কাজ করার প্রমাণ
হাতে নগদ টাকা। কোনো রসিদ নেই, নাম নেই, তারিখ নেই। টাকা হাত বদলায়, প্রমাণ থাকে না।
রেকর্ড না থাকলে একজন কর্মী পারেন না…
মজুরি নিয়ে আপত্তি জানাতে
মজুরি কম এলে দেখানোর মতো কিছুই থাকে না।
অভিজ্ঞতা দেখাতে
দশ বছরের কাজ আর কোনো কাজ না করা, দেখতে একই রকম।
আহত হওয়ার দিন যে কাজে ছিলেন, তা প্রমাণ করতে
এক বছরে ৯.৬ লাখ মানুষ কাজের কারণে আঘাত বা অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন।
বিবিএস শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪
আর দেশও তাদের গুনতে, তাদের কাছে পৌঁছাতে বা তাদের সুরক্ষা দিতে পারে না।
আজ কাজ কীভাবে একজন কর্মীর কাছে পৌঁছায়
প্রথম কার্যাদেশ থেকে দিনের কাজ পর্যন্ত পাঁচটি ধাপ। শুধু শেষ ধাপের মানুষটিই খালি হাতে থাকেন।
- ১
সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বড় প্রতিষ্ঠান
কাজের আদেশ দেয়।
- ২
লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান
টেন্ডারে দরপত্র দেয়।
- ৩
ঠিকাদার, উপ-ঠিকাদার ও গৃহস্থ
কাজের জন্য লোক নেন।
- ৪
একজন সর্দার
দল গড়ে দেন।
- ৫
কর্মী
ভোরে ডাক পান, নগদে মজুরি পান, আর কোনো রেকর্ড ছাড়াই থেকে যান।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি কাদের
নারী
৯৬%
কর্মরত নারী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন
৫৭%
পুরুষের মজুরির তুলনায়, প্রাথমিক পর্যায়ের কাজে
বিবিএস শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪
খোলা জায়গার কর্মী
গরম আর বর্ষায় রাস্তায়, ছাদে, সাইটে কাজ। আবহাওয়া কাজ থামালে সেদিনের মজুরিও থেমে যায়।
মৌসুমি কর্মী
দুই ফসলের মাঝে শহরে নতুন আসেন। তাদের হয়ে বলার কেউ নেই, আগের কাজের কোনো প্রমাণও নেই।
বাকি চিত্র
৪ জনে ৩ জন
মজুরি পান শুধু নগদে
বিশ্বব্যাংক গ্লোবাল ফাইন্ডেক্স ২০২৫
৩ জনে ১ জন
বেতনভোগী কর্মীর চুক্তি শুধু মুখে মুখে
বিবিএস শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪
১০ জনে ১ জন
বেতনভোগী কর্মীর জন্য নিয়োগকর্তা পেনশনে টাকা দেন
বিবিএস শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪
৩৭ লাখ
মানুষ নির্মাণ খাতে কাজ করেন
বিবিএস শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪
৯% কম
নির্মাণ খাতে প্রকৃত মজুরি, ২০২১-২২ সালের তুলনায়
বিবিএস মজুরি হার সূচক, মূল্যস্ফীতি-সমন্বিত
বাংলাদেশের জন্য কেন জরুরি
রেকর্ড করা কাজ কী বদলাতে পারে, লক্ষ্য ধরে ধরে।
১
দারিদ্র্য বিলোপ
নিয়মিত কাজের রেকর্ড ঋণ ও সহায়তার দরজা খুলে দিতে পারে।
৫
লিঙ্গ সমতা
নারীর কাজ নিজের নামে গোনা হলে তাকে কম মজুরি দেওয়া কঠিন হয়।
৮
শোভন কাজ
প্রতিটি দিনের প্রমাণ থাকলে ন্যায্য মজুরি আর নিরাপদ সাইট দাবি করার ভিত্তি থাকে।
৯
শিল্প ও অবকাঠামো
কারা গড়েছেন, তার স্পষ্ট রেকর্ডসহ রাস্তা ও ভবন।
১০
বৈষম্য হ্রাস
যে কর্মীদের দেশ গুনতে পারে, তাদের কাছেই দেশ পৌঁছাতে পারে।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, মজুরি হার সূচক (মূল্যস্ফীতি-সমন্বিত)
- বিশ্বব্যাংক, গ্লোবাল ফাইন্ডেক্স ডেটাবেস ২০২৫


